OurSolve
Image default
Covid Education

ভ্যাক্সিন কি? ভ্যাক্সিন কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিত

কথায় আছে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। ভ্যাক্সিন বা টিকা হল এমন এক ধরনের প্রতিরোধী ঔষধ যা রোগ হওয়ার আগেই গ্রহন করতে হয়। এর ফলে প্রানীদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মারাত্মক জীবনঘাতী রোগের সাথে লড়াই করা সহজ হয়। কার্যকর টিকাদান কর্মসূচীর মাধ্যমে স্মল পক্স, পোলিও, ধনুষ্টংকার এবং হাম এর মত রোগ নির্মুল করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে ভ্যাক্সিন বা টিকা সম্পর্কে প্রাথমিক আলোচনা করা হবে।

ভ্যাক্সিন অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মত। কোন একটি রোগের ভ্যাক্সিন, সেই রোগের জন্য দায়ী জীবানু  দিয়েই তৈরি করা হয়। তবে ভ্যাক্সিন তৈরির সময় জীবানুর ক্ষতিকর দিকটি নিস্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এমন নিষ্ক্রিয় জীবানু দেহে প্রবেশের ফলে রোগ তো হয় ই না, উল্টো আমাদের শরীরে অ্যান্টিবডি  উৎপাদনে সাহায্য করে। যার ফলে ভবিষ্যতে প্রকৃত জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হলে, আমাদের শরীর সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে সহজে লড়াই করতে পারে। ভ্যাক্সিনে থাকা দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় জীবাণু  দিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এক ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।  শরীরের অ্যান্টিবডি আগে থেকে জীবাণুকে চিনে রাখলে  পরবর্তিতে আক্রান্ত হবার সাথে সাথে জীবাণু ধ্বংস করা সহজ হয়। সোজা বাংলায় বলতে গেলে, রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাহীন জীবাণু  কৃত্রিম উপায়ে দেহে প্রবেশ করিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করাকে ভ্যাক্সিন বলে।

খ্রীষ্টপূর্ব ৪২৯ সালে গ্রীক ইতিহাসবিদ থুসিডিডেস লক্ষ্য করেন যে এথেঞ্জ শহরে যেসব রোগী স্মল পক্স দ্বারা আক্রান্ত হবার পর বেঁচে গেছে তারা পুনরায় এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে না। এই ধারণার উপর ভিত্তি করে ১০০০ সালের দিকে চীনারা সর্বপ্রথম ভ্যাক্সিনেশন এর আদিরূপ ভ্যারিওলেশন আবিষ্কার করেন। সেখান থেকে ১৭৯৬ সালে ব্রিটিশ  চিকিৎসক ডাঃ এডোয়ার্ড জেনার আধুনিক ভ্যাক্সিনেশন আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ১৮৮০ সালে লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করে চিকিৎসাশাস্ত্রে  ভ্যাক্সিনকে গুরুত্তপুর্ণ করে তোলেন।  চিকিৎসাশাস্ত্রে  সর্বপ্রথম নোবেল পুরষ্কারও দেওয়া হয়েছিল একটি ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের জন্য। জার্মান বিজ্ঞানী এমিল ভন বেরিং  ডিপথেরিয়া রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য ১৯০১ সালে নোবেল জয় করেন ।  ১৯২০ সালের শেষদিকে ডিপথেরিয়া , ধনুষ্টংকার এবং  যক্ষ্মার ভ্যাক্সিন সহজলভ্য হয়ে যায়। ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম পোলিও টিকাদান কর্মসূচি ব্যাপক কার্যকর হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ১৯৫৬ সালে স্মল পক্স নির্মুলের জন্য বিশ্বব্যাপী টিকাদান কর্মসূচী শুরু করে। মাত্র ২৮ বছরের ব্যাবধানে সমগ্র পৃথিবীকে স্মল পক্স মুক্ত ঘোষণা করা হয়, যা তৎকালীন সময় পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত।

কোন রোগের টিকা আবিষ্কারের পর তা অনুমোদন পেতে বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। সাধারণত একটি প্রতিষেধক আবিষ্কার করা থেকে শুরু করে বাজারজাত করতে প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগে। কিন্তু বর্তমান সময়ে ব্যবহৃত অধিকাংশ করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক  মাত্র এক বছরেরও কম সময়ে বাজারজাত করা হয়েছে। কোভিট-১৯ টিকার আগে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে  আবিষ্কৃত ভ্যাক্সিন ছিল মামস রোগের টিকা।  যা আবিষ্কার করতে মাত্র ৪ বছর সময় লেগেছিল। ভ্যাক্সিন উৎপাদন প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি এবং বিভিন্ন দেশের সরকার ও বহুজাতিক ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ফলে করোনা প্রতিষেধক এত দ্রুত সময়ে আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। যেকোন ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নির্ভর করে বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এর উপর। কিন্তু কোভিট-১৯ এর টিকা পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষের উপর পরীক্ষা চালানোর আগেই বাজারে ছাড়া হয়েছে।  এত অল্পসময়র উৎপাদিত করোনাভাইরাসের টিকা মহামারী সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার জন্য তৈরি হয় নি।

এর প্রধান উদ্দেশ্য হল, কোভিট আক্রান্ত গুরুতর রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা। যাতে করে কোন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা হুট করে ভেঙে না পড়ে। এবং মানুষ সামান্য চিকিৎসায় যাতে সুস্থ হতে পারে। করোনা ভ্যাক্সিন শুধু করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণ কেই প্রবাহিত করে নি। বরং করোনা মহামারীর কারনে ভ্যাক্সিন তৈরির পদ্ধতিয় উন্নত হয়েছে বহুগুন।

Related posts

ঘুর্ণিঝড় কি? ঘুর্ণিঝড় কেন হয়? ঘুর্ণিঝড় কিভাবে হয়? বিস্তারিত

oursolve