OurSolve
Image default
world

মক্কা ক্লক টাওয়ার ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়ি – জানুন বিস্তারিত

ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মসজিদ উল হারাম এর পাশেই রয়েছে  মক্কার রয়েল হোটেল ক্লক টাওয়ার। আর এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়ি। সৌদি সরকারের মালিকানাধীন এই ভবনটি আবরাজ আল বাইত টাওয়ার নামেও পরিচিত। ১২০ তলা এই বিল্ডিংটি বর্তমান বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভবন হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়াও এই ভবনের ৩০ টির বেশি বিশ্বরেকর্ড রয়েছে। আজকের এই আর্টিকেলে জানব মক্কার ক্লক টাওয়ার এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় মক্কা ঘড়ি সম্পর্কে।

২০০২ সালে একটি অটোমান দূর্গ ভেঙ্গে আবরাজ আল বাইত টাওয়ারের নির্মান কাজ শুরু হয়। সাতটি বিশাল টাওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত এই ভবন নির্মান করতে প্রায় ৮ বছর সময় লাগে। বিল্ডিংয়ের সবচেয়ে বড় অংশটির উচ্চতা প্রায় ২০০০ ফুট। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়ির টাওয়ার।  এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়ি। দুবাইর বুর্জ খলিফা এবিং চীনের সাংহাই টাওয়ারের পরেই এর অবস্থান। তবে নির্মান ব্যায়ের হিসেবে এটিই বিশ্বের দামী ভবন। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভবন বুর্জ খলিফা নির্মান করতে খরচ হয়েছিল দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু আবরাজ আল বাইত টাওয়ার নির্মান করতে খরচ হয়েছে পনেরো বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফ্লোর স্পেস এর দিক থেকে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন। এই বিল্ডিংয়ের ফ্লোর এর আয়তন  পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ ভ্যাটিকান সিটির চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন গুন বড়। এই ভবনের নিচের চার তলা শপিং মল। এবং এখানে আছে ৩০০০ কক্ষ বিশিষ্ট সাত তারকামানের হোটেল, জাদুঘর এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টেলিস্কপ সম্পন্ন  চন্দ্র পর্যবেক্ষন কেন্দ্র। এখানকার হোটেলরুম থেকে পবিত্র কাবার অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়। এই টাওয়ারের বিভিন্ন জায়গায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লাউডস্পিকার বসানো হয়েছে। যার মাধ্যমে সাত কিলোমিটার পর্যন্ত আযানের ধ্বনি প্রচার করা যায়। মক্কা ঘড়ির দৈর্ঘ প্রায় ১৪১ ফুট। যা লন্ডনের বিগ বেন এর চেয়ে ৩৫ গুন বড়। মক্কা ঘড়ির ওজন ৩৬০০০ মেট্রিক টন। যা সমগ্র আইফেল টাওয়ারের ওজনের সাড়ে তিন গুনেরো বেশি। মক্কা ঘড়ির মিনিটের কাটার দৈর্ঘ ৭৫.৫ ফুট এবং ঘন্টার কাটার দৈর্ঘ ৫৫.৫ ফুট।  দিনের বেলা ঘড়িটি থাকে সাদা ও কালো এবং রাতের বেলায় ঘড়িটির রঙ হয়ে যায় সাদা ও সবুজ। মক্কা ঘড়ি মূলত চারটি ঘড়ির সমন্বয়।  ঘড়ির চার পাশ থেকেই দিনের বেলা ১২ কিলোমিটার এবং রাতের বেলা ১৭ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ঘড়িতে সময় দেখা যায়।  ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও ঘড়িটি চোখে পড়ে।  তবে অতদূর থেকে সময় বোঝা যায়না। মক্কা ঘড়িতে ৯ কোটি ৮০ লক্ষ টুকরা ২৪ ক্যারেট সোনার টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। ঘড়ির উপরে লেখা আছে আল্লাহু আকবার। এই অংশটি আলোকিত করতে প্রায় ২০ লক্ষ এলইডি বাতি ব্যবহার করা হয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই ঘড়ি গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী চলে না। এই ঘড়ি মক্কা মান সময়ে পরিচালিত হয়। ২০০৮ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্টিত এক সম্মেলনে মুসলিম পন্ডিত ও বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করেন যে, পৃথিবীর মূল মধ্যরেখা পবিত্র মক্কার উপর দিয়ে প্রলম্বিত।  ফলে মক্কা পৃথিবীর টাইম জোনের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত।

একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা এই উদ্ভাবনী এই প্রকল্প নির্মান করাটা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। যেহেতু জায়গাটি মসজিদ ঊল হারাম এর আঙিনায় অবস্থিত। সেজন্য এর নির্মান প্রক্রিয়ায় কোন অমুসলিম অংশগ্রহন করতে পারে নি। তবে সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘড়ির একেকটি অংশ তৈরি করা হয়েছে। সুইস এবং জার্মান প্রকৌশলীরা ঘড়ির নকশা করেছে। এবং ঘড়ীটি নির্মান করা হয়েছে জার্মানিতে। ঘড়ির ক্যালিগ্রাফি নকশা করেছে তুরস্কের বিখ্যাত শিল্পীরা। এবং ভারতের কারিগরেরা সেসব ক্যালিগ্রাফিক প্লেট তৈরি করেছে। এখানকার জানালাগুলো তৈরি করা হয়েছে জার্মানিতে। এবং জানালার কাচ বানানো হয়েছে বসনিয়ায়। ঘড়ির উপরে ৭৫ ফুট ব্যাসের একটি বাকা চাঁদ সংযুক্ত করা হয়েছে। নতুন চাঁদের মত এই অংশটি আসলে একটি নামাজের ঘর।  এছাড়াও এখানে ২১০০০ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাতি সংযুক্ত করা হয়েছে। যা প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় সংকেত প্রদান করে। এছাড়া ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আলোক প্রক্ষেপনের জন্য ১৬ ধরনের লাইট এখানে সংযুক্ত আছে।

এই বিল্ডিংয়ে ১০০০০ মুসল্লি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নামাজের ঘর, এবং বিশ্বের অনত্যম শীর্ষ পর্যবেক্ষন ডেক আছে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে উচু পর্যবেক্ষন ডেক আছে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায়। যা মনুষ্য নির্মিত সবচেয়ে উচু অবকাঠামো।

Related posts

পৃথিবীর শেষ প্রান্তে প্রাইকেস্টোলেন!? জানুন বিস্তারিত

oursolve